Wednesday, January 11, 2017

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার সহজ টিপস

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ফেসবুকের অনুসারে, একশ জনের মধ্যে ৬৪ জন ব্যবহারকারী ছাত্র-ছাত্রী। দিনের অনেকটা সময় কেটে যায় পড়াশোনার জন্য। তাই পাঠ্যপুস্তক হাতে নিয়ে পড়াতে খুব একটা ভালো লাগে না তাদের। পড়তে বসলেই মন ছুটে যায় ফেসবুকের দিকে। এই বুঝি কেউ ইনবক্সে কিছু লিখলো, হয়তো কেউ ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালো, পছন্দে কোনো ব্যক্তি হয়তো চমৎকার কোনো স্ট্যাস্টা দিয়েছে, যা আমি এখনও দেখিনি। সব মিলিয়ে মনের মধ্যে এক ধরণের টানা উত্তেজনা কাজ করে। 

কিন্তু প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর মনেই একটা আকাঙ্খা থাকে ভালো রজাল্ট করার। তাই অল্প পড়াশোনা করে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করাতে কে না চায়। আশাকরি এতে সকল ধরনের ছাত্র-ছাত্রীরা লাভবান হবে:

(১) পরিকল্পনা করুন:
পরিকল্পনা যেকোনো কাজের অর্ধেক। তাই সহজ ভাষায় বলা যায়, পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত কাজ হয়েছে তার শতকরা ৯৮ ভাগ কাজই সফলতা অর্জন করেনি। তাই কি করবেন, কতটুকু করবেন তার সুষ্ঠুপরিকল্পনা করে ফেলুন। যেমন- আপনি প্রতিদিন প্রতিটা বইয়ের ১টি প্রশ্নের উত্তর পড়বেন অথবা সকালে এই বই পড়বেন, রাতে অন্য বই পড়বেন।

(২) জোরে শুধু পড়–ন, মুখস্থ করবেন না:
অনেকেই হয়তো মুখস্থ করতে সময় লাগে। তাই যেটা পড়বেন সেটা শুধু পড়ুন কিন্তু মুখস্থ করতে চেষ্টা করবেন না। পড়ার সময় অবশ্যই শব্দ করে পড়–ন। কারণ এতে আপনার কান শব্দটা শুনতে পারবে। চেষ্টা করুণ যতটুকু পড়ছেন ততটুকু বুঝে বুঝে পড়তে। অনেক সময় এমন হয় শুধু পড়ার কারনে আপনার পুরো বিষয়টা পরীক্ষার সময় আপনি ভুলে গেছেন। জোর করে মস্তিকের উপর চাপ দিয়ে যদি মুখস্থ করতে যান তাহলে ভুলে যেতে পারেন। যেটা খুবই স্বাভাবিক। যেমন: আমরা পত্রিকা পড়ি কিন্তু মুখস্থকরি না, তবে খবরগুলো ঠিকই আমাদের মনে থাকে। তাই প্রতিদিনই অল্প-অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুণ।

(৩) পড়ার সময় মাঝে মাঝে লেখার চেষ্টা করুণ:
যে প্রশ্নটি পড়বেন সেটার উত্তরগুলো খাতায় লেখার চেষ্টা করুণ। কারণ কথায় আছে এক বার লেখা ১০ বার পড়ার সমান। এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এতে পড়াও মনে থাকবে ও চোখের সাহায্যে অন্তরেও গেঁথে যাবে। আমাদের চোখ ক্যামেরার কাজ করে। আপনি বেশি লিখবেন না, এতে সব কিছু গুলিয়ে ফেলতে পারেন। মনে রাখার জন্য প্রধান প্রধান বিষয়গুলো দুচার লাইন করে লিখুন।

(৪) সময় নির্ধারণ করে পড়াশুনা করুণ:
পড়ালেখার একটি মূল্যমন্ত্র হলো: সময়ের কাজ আপনাকে সময়ে করতেই হবে। বেশীক্ষণ পড়তে ভালো লাগেনা? মন অন্য কোথাও চলে যায়? ঠিক আছে। তাহলে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা নির্ধারণ করুন। ওই সময়টুকু আপনি পড়ালেখা করবেন। তখন পৃথিবীর অন্য কোন কাজ করবেন না। শুধু আপনি আর পড়ালেখা। একটা প্রবাদ বাক্য আছে: কাজের সময় কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন। সুন্দর ফলাফল তৈরি করুণ।
(৫) আপনার প্রতিযোগিতে ঠিক করুণ এবং টার্গেট নিন:
রেসের মাঠে একা দৌড়ালে যেমন কোন লাভ হবে না, তেমনি পড়াশোনায়ও ভালো রেজাল্ট করতে অবশ্যই আপনাকে প্রতিযোগি বিপক্ষে কাজ করতে হবে। আপনার থেকে ভালো কিংবা আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে যারা পড়ালেখা করছে তাদের টার্গেট করুণ। মনে মনে একটি প্রতিজ্ঞা করুণ, পরবর্তি পরীক্ষায় আমি তার থেকে কমপক্ষে ২০/৩০ মার্কস বেশী ওঠাবো বা ২ পয়েন্ট বেশী অর্জন করবো। তবে প্রতিজ্ঞা করে বসে থাকলে চলবে না।

(৬) সফল হতে হলে আড্ডা বা চেট কমিয়ে দিন:
এখানে বলা হয়নি যে, আপনি একদম আড্ডা দিবেন না! কিন্তু আড্ডা দেয়ার সময় কমিয়ে দিন। প্রতিদিন যদি ২ ঘন্টা আড্ডা দেয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেটা আধা ঘন্টা কমিয়ে দিন। এই সময়টুকু অন্য কাজে লাগাতে পারবেন। নিয়মিত চেষ্টা করুণ এবং দেখবেন আড্ডা কমে আসবে। যেসব বন্ধু বা লোকজনের সঙ্গে আপনি আড্ডা দিচ্ছেন তারা যদি ভালো ছাত্র-ছাত্রী না হয় তাহলে আপনার এই আড্ডার সময়টুকু বৃথা যাচ্ছে। আড্ডা দিতে সবারই ভালো লাগে কিন্তু সেটা যদি হয় লেখাপড়াকে কেন্দ্র করে তাহলে সবার জন্য ভালো।

(৭) ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে চলুনঃ
কথায় আছে সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। আপনি যদি এভারেজ কিংবা খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে চলাফেরা করেন তাহলে আপনার উপরে কিন্তু খারাপ প্রভাবই পরবে। মনে রাখবেন ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা বেশির ভাগ সময় পড়ালেখা নিয়ে আড্ডা দেয় এবং সামনে তাদের কিরতে হবে, সে বিষয়ে চিন্তা করে।

(৮) ধর্মীয় ইবাদত মেনে চলুন:
আপনি যে ধর্মের অনুসারি হন না কেনো, ঈশ্বরকে ডাকলে তিনি আপনার কঠিন কাজ সহজ করে দিবেন। কিন্তু শুধু পরীক্ষার আগে ¯্রষ্টার নাম জপে কোন ফায়দা হয় না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ধর্মীয় কাজে মন দিন। তাহলে স্রষ্টাও আপনার উপরে খুশি হবেন। শুধুমাত্র বাবা-মা কিংবা টিচারের মন জয়ের জন্য কাজ করলে হবে না।
(৯) নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস গড়–ন:
পড়ালেখায় ভালো করার একটি সহজ পদ্ধতি হলো, সময় নির্দিষ্ট করা। প্রতিদিন অল্প পড়ুন বা বেশি পড়ুন সেটার একটা নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। যেমন: প্রতিদিন সকালে আপনি অন্যযেকোন কাজ শুরু করার আগে ১-২ ঘণ্টা পড়ালেখা করে বাহিরে বের হবেন। কিংবা প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ১০টা বা ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করুণ। এই সময়টা শুধুই পড়ুন। অন্যকোন কাজ করবেন না।

(১০) টিভি দেখা কমিয়ে দিন:
সাধারণত আমরা সবাই টিভি দেখে নিজেকে নায়ক নায়িকা বা গায়ক গায়িকা ভাবতে পছন্দ করে। আর ছাত্র জীবনে এর প্রভাব ব্যাপক। কিন্তু মনে রাখবেন টিভিতে যা কিছু দেখি সবই কিন্তু প্রফেশনাল লোকজন করেন। এটা তাদের পেশা। তাই আপনি যদি তাদের মতো কল্পনা করেন কিন্তু পড়ালেখা না করেন তাহলে কিন্তু কোন কাজ হবে না।

লেখাপড়া আরো অনেক টিপস আছে। একবারে সব দিলাম না। তাহলে ভুলে যেতে পারেন। পরের পর্বে আরো দিবো। আশা করি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। একটা কথা মনে রাখবেন আপনার পড়াশোনার পরিমানের উপর নির্ভর করবে আপনার পরবর্তী কর্ম জীবনের সফলতা।

0 comments:

Post a Comment

Top Ad 728x90