শুভ বড়দিন। আমাদের দেশে, সমাজে ও পরিবারেও বিশেষ বিশেষ দিন উদ্যাপন করতে দেখা যায় যা মানুষের মধ্য থেকে এসেছে কিন্তু বড়দিন এক মহান দিন সেটা হলো প্রভু যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন। ২০০০ বছরের অধিককাল পূর্বে এই ধরণীতে নেমে এসেছিলেন সমস্ত মানব জাতির একমাত্র ত্রাণকর্তা ও শান্তিরাজ প্রভু খ্রিস্ট যীশু।
তাঁর এই জন্মবারতা হাজার বছর আগে নবীদের মাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছিলেন তিনি। সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনায় পবিত্র আত্মার আবেশে কুমারী মরিয়মের গর্ভে প্রভু যীশু খ্রিস্টের প্রথম আগমন। বড়দিন সমস্ত মানুষের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার প্রদানের দিন। এই বড় দিন খ্রীষ্টানদের জন্য এক মহানন্দের দিন।ক্রিসমাস বা বড়দিন। ক্রিসমাস বা বড়দিন খ্রিস্টিয়ানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটিকে খ্রিস্টিয়ানরা প্রভু যীশুর জন্মদিন হিসেবে পালন করেন। ইংরেজি শব্দ Christmass শব্দটির আগমন এসেছে পুরনো ইংরেজি বাক্য ‘Mass of the Christ's day’ থেকে। ক্রিসমাস শব্দের সমার্থকরূপে বড়দিন, স্পেনিশ ভাষায় ‘নাভিদাদ’, ইতালীয় ভাষায় ‘নাতালি’, ফরাসি ভাষায়- ‘নোয়েল’ ।
বহুদিন পর্যন্ত ৬ জানুয়ারিকে যীশুর জন্মদিন রূপে উদযাপন করা হতো। কেননা এই দিনেই জর্ডান নদীর জলে ডুব দিয়ে যীশু ‘ব্যাপ্তাইজ’ হয়েছিলেন। গুড ফ্রাইডে অথবা ইস্টারের ন্যায় ধর্মানুভূতি ও ধর্মীয় আচার সহযোগে এই ক্রিসমাস পালিত না হলেও খ্রিস্টিয় নবম শতক থেকে এই দিনটিকে ঘটা করে উদযাপনের ইতিহাস রয়েছে। খ্রিসমাস পর্বে যে বৃক্ষের ব্যবহার দেখা যায়, এর কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ না থাকলেও জামার্নির ট্রান্সবার্গ শহরে ১৬০৫ সালে এর প্রথম ব্যবহারের বৃত্তান্ত জানা যায়। ক্রিসমাস বৃক্ষে মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন ১৬১১ সালে শুরু হয়।
ত্রাণকর্তা যিশুর জন্মতিথি বড়দিনে, আমাদের নতুন করে নিজেকে জানতে ও গড়তে এবং সার্বিক জীবনযাপন পর্যালোচনা করতে হয়। খ্রিস্টিয় আদর্শ এবং খ্রিস্টিয় চেতনা অনুপ্রেরণা দান করে যেন আমাদের পরিবারে, সমাজে অন্যায়, অবিচার, অসত্য, দুর্নীতি ও নিপীড়ন না থাকে। সুষম, সুন্দর, ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে বড়দিনের প্রধান উদ্দেশ্য। বড়দিন ভরে উঠুক জাতি-ধর্ম সকল মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিতে। এই প্রার্থনা ঈশ্বরের নিকট।২৫ ডিসেম্বর, খ্রীষ্টানদের বড় দিন, দিনটি খ্রীষ্টান বিশ্বে উদযাপিত হয়। ধর্মীয় উৎসব হিসেবে এর গুরুত্ব তাদের কাছে অনেক। কিন্তু দুঃখ্যজনক হলেও সত্য যে আজ মুসলিম বিশ্বেও দিনটি বেশ গুরুত্ব পচ্ছে। ইংরেজী Christmas শব্দটির দুটি অংশ একটি Christ অপরটি mas, Christ এটি ঈসা (আঃ) এর একটি উপাধি, আর mas অর্থ জন্ম দিন বা জন্ম উৎসব। তাহলে Christmas এর মাধ্যমে ঈসা (আঃ) এর জন্ম উৎসব বোঝানো হয়ে থাকে। (google.com এ গিয়ে “birthdate of jesus christ” লিখে সার্চ দিন।) যদিও আজকে খ্রীষ্টানরা এই দিনটিকে ঈসা (আঃ) এর জন্ম দিন হেসেবে পালন করে থাকে বাস্তবে ইতিহাসে তাঁর জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে নির্ণিত নেই। এ নিয়ে স্বয়ং খ্রীষ্টানদের মাঝেও মতবিরোধ আছে। তাই দেখা যায় কেথলিক খ্রীষ্টানরা ২৫ ডিসেম্বারকে ক্রিসমাস হিসেবে পালন করে থাকে আর অপর দিকে অর্তডোকরা ৭ জানুয়ারীকে ক্রিসমাস হিসেবে পালন করে থাকে।
![]() |
| Add caption |
যীশুর জন্মের বিষয়ে বাইবেল যা বলে
মথি ও লূকের সুসমাচারে আপনি যীশুর জন্মের বিষয়ে একেবারে ঠিক ঠিক ঘটনাগুলো পাবেন। সুসমাচারের বইগুলো আমাদের বলে যে গাব্রিয়েল দূত মরিয়ম নামে এক কুমারী যুবতীর কাছে আসেন, যে গালিলের নাসারতে বাস করত। দূত তাকে কী বলেছিলেন?
“দেখ, তুমি গর্ব্ভবতী হইয়া পুত্ত্র প্রসব করিবে, ও তাঁহার নাম যীশু রাখিবে। তিনি মহান্ হইবেন, আর তাঁহাকে বলা যাইবে; আর প্রভু ঈশ্বর তাঁহার পিতা দায়ূদের সিংহাসন তাঁহাকে দিবেন; তিনি যাকোব-কুলের উপরে যুগে যুগে রাজত্ব করিবেন, ও তাঁহার রাজ্যের শেষ হইবে না।”—লূক ১:৩১-৩৩.
এ কথা শুনে মরিয়ম খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কুমারী হওয়ায় তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন:
“ইহা কিরূপে হইবে? আমি ত পুরুষকে জানি না।”
দূত উত্তর দিয়েছিলেন:
“পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসিবেন, এবং পর্যন্ত শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে; এই কারণ যে পবিত্র সন্তান জন্মিবেন, তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্ত্র বলা যাইবে।”
ঈশ্বর তার জন্য এমন চান তা বুঝতে পেরে মরিয়ম বলেছিলেন:
“দেখুন, আমি প্রভুর দাসী; আপনার বাক্যানুসারে আমার প্রতি ঘটুক।—লূক ১:৩৪-৩৮
এনএফ


0 comments:
Post a Comment